৪৩টি প্রান অকালে ঝরে গেল

স্টীফেন কোর্টের  অগ্নিকান্ডে স্বজন হারানো সব পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা জানাই। মর্মান্তিক ঘটনা। ৩৩টি ৪৩টি প্রান অকালে ঝরে গেল। সেদিন সকালে বাড়ী থেকে রওয়ানা  হবার সময় কেও কি জানত এই মর্মান্তিক ঘটনা তাদের জন্য অপেক্ষা করছে, তাদের  আর ঘরে ফেরা হবে না। অনেকে চাকুরীসুত্রে আবার অনেকে বিভিন্ন কাজের জন্য সেখানে উপস্তিত হয়েছিল। একেই বলে নিয়তি।

সব মৃত্যুই দুঃক্ষের, বেদনার। তবু কিছু সামনের পাতায় উঠে আসে। বিশেষ খবর হয়ে যায়। সুনীতা সাহা (আবার কোথাও সুমিতা) তার প্রেমিককে (হবু স্বামীকে) হারাল, খুবই মর্মান্তিকভাবে। রাজেন নতুন ছাকরীতে ওই অভিশপ্ত স্স্টীফেন কোর্টে যোগ দেয় কয়েকদিন আগে। তারা ঘর বাঁধার স্বপ্নে বিভোর ছিল। জীবনটা তাদের রুপকথার মতই কাটছিল।  ঘুনাক্ষরেও সুনীতা বুঝতে পারেনি রাজেন এত তাড়াতাড়ি তার জীবন থেকে হারিয়ে যাবে। তার জীবনে নেমে আসবে অন্ধকার। মোবাইল বার বার তাকে বলছিল “NOT REACHABLE”. সে তখন বহু দুরে। সত্যিই সে তার কাছে পৌঁছাতে পারবে না।
পার্কস্টীট আর হাসপাতাল দৌড়াদৌড়ি করে সুনীতার রাত ভোর হল। অবশেষে আধপোড়া দেহগুলো শনাক্ত করার সুযোগ পেল সুনীতা।  সুনীতা গত পুজায় যে শার্টটি তার হবু  স্বামীকে উপহার দিয়েছিল, সেই  শার্টটি দেখেই  সুনীতা মর্গে তাকে শনাক্ত করে। ঝলসে যাওয়া শরীরগুলো চেনার উপযুক্ত ছিল না। সে তার ঐ  শার্টটির টুকরো  আর তার অতি পরিচিত ঘড়িটি দেখে শনাক্ত করে। নিয়তি বড়ই নিষ্ঠুর।

সুনীতার জন্য রইল আমার সমবেদনা।

এটা তেত্রিশটি  ৪৩টি মৃত্যুর একটি গল্প । সব মৃত্যু সমান বেদনার, দুঃক্ষের। ঘটনাগুলোও সমান গুরুত্ত্বের কিন্তু সবার গল্প  বা ঘটনার বিবরন এখানে তুলে ধরা গেল না তার জন্য দুঃক্ষিত।

১৭ টি মৃত্যুর কারন একটি তালা :
কিন্তু একটা তালা  ১৭ টি মৃত্যুর কারন হল এটা কিছুতেই ভোলা যাচ্ছে না। কি মর্মান্তিক মৃত্যু কল্পনা করা  যায় না। তারা সকলেই ভেবেছিল তাদের পিছনে ধাবমান লেলিহান শিখাকে হারিয়ে সিঁড়ির শেষে  ছাদে যাবার দরজা দিয়ে ছাদে পৌঁছে যাবে। অন্ধকার সিঁড়ির শেষে ছাদের আলো দেখে তারা আনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল এই ভেবে যে তারা এ যাত্রায় বেঁচে গেল। তারা আগুনকে পিছনে ফেলে গেটের কাছে পৌঁছেও গেল।কিন্তু Collapsible গেটের কাছে গিয়ে দেখে গেট তালা  দিয়ে বন্ধ। পেছনে আগুনের শিখা ধেয়ে আসছে, সামনে গেট বন্ধ। হয়ত তালা ভাঙ্গার চেষ্টা করেও সফল হয়নি তারা । তাদের  হাতে সময়  বেশি ছিল না । পালাবার অন্য আর কোনো রাস্তাও  ছিল না। তারা বন্ধ গেট এবং আগুনের মাঝে  TRAPPED হয়ে গিয়েছিল। এর পরের দৃশ্য খুবই মর্মান্তিক। লেলিহান শিখা  আস্তে আস্তে  তাদের গ্রাস করে ফেলে। অসহায়ভাবে মৃত্যু বরন করা ছাড়া তাদের কাছে আর কোন উপায়ন্তর ছিল না।   একটি তালা সতেরটি তাজা প্রান নিয়ে নিল। সতেরজনের মৃতদেহ ওই অভিশপ্ত গেটের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়।

সিঁড়ি বা ছাদে যাবার চেষ্টা না করে এরা সবাই  অফিস ঘরের বাইরে AC’র খাঁচায় আশ্রয় নেয় এবং  সময়মত উদ্ধার হওয়ার জন্য আগুনের গ্রাস থেকে বেঁচে যায়।

Pic source : Times of India

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s