ভারতের স্যুইজারল্যান্ড – কৌসানি

ভারতের স্যুইজারল্যান্ড – কৌসানি

শৈলশহর কৌসানি ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্যে অবস্থিত। এখানের প্রাকৃতিক সৌন্দ্যর্য ও আবহাওয়ার জন্য কৌসানিকে ভারতের  স্যুইজারল্যান্ড বলা হয়। এটি সমুদ্রতট থেকে ১৮৯০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।এখান থেকে হিমালয়ের বিভিন্ন শৃঙ্গের সৌন্দ্যর্য উপভোগ করা যায়, যদি আপনি সৌভাগ্যবান হন এবং আবহাওয়া যদি তার অনুকুল হয়। নীচের ছবিতে দেখা যাচ্ছে।

আমরা যখন কৌসানি পৌঁছালাম, তখন বৃষ্টি নেমেছে। মে মাসে এত ঠান্ডা হতে পারে, কল্পনায় ছিল না। তাড়াতাড়ি হোটেলে ঢুকে পড়লাম। কিন্তু নিঃস্তব্ধ উপত্যকায় ঝিরঝিরে বৃষ্টির যে সৌন্দ্যর্য তা ভোলবার নয় । হোটেলের চারপাশে এবং পাহাড়ের নীচে গাছের পাতায় বৃষ্টির পড়ার শব্দ আমাকে ঘরের বাইরে নিয়ে এল।  ঠান্ডা উপেক্ষা করে বারান্দায় বসে আমার সামনের সমস্ত উপত্যকার সৌন্দ্যর্য উপভোগ করতে লাগলাম। মনে হচ্ছিল এই বিশাল নিঃস্তব্ধ উপত্যকায় আমি একা বসে আছি।

A dream evening at Kausani

হিমালয়ের ৩০০ কিলোমিটার বিস্তৃত কুমায়ুন রেঞ্জের শৃঙ্গগুলি কৌসানি থেকে দেখা যায়। হিমালয় দর্শন, আর এখানের প্রাকৃতিক সৌন্দ্যর্য ও আবহাওয়া উপভোগ করার জন্য পর্য্যটকেরা এখানে আসে। আমরা মে মাসে গিয়ে ভাল ঠান্ডা পেয়েছিলাম। বৃষ্টির কল্যানে একটু  বেশিই পেয়েছিলাম। কিন্তু মেঘলা থাকার জন্য হিমালয় দর্শন আর সে যাত্রায় হয়ে ওঠেনি। কিন্তু মেঘলার জন্য, উপত্যকাময় মেঘের খেলা  যা দেখেছিলাম তা এক দারুন অভিজ্ঞতা।

কৌসানিতে সূর্য্যোদয়

ভোরবেলা নানারকম পাখির ডাকে ঘুম ভেঙ্গে গেল। মনে হচ্ছিল পাখিগুলো আমাদের ঘুম ভাঙ্গানোর জন্যই জানালার কাছে ডাকছিল। ভোরবেলা উঠে যা দেখলাম তা বিশ্বাস হচ্ছিল না, নিজের  চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।  সারা উপত্যকা সাদা মেঘে ঢেকে গেছে। পাহাড়ের চুড়া, গাছ,  জঙ্গল, গ্রাম সব ঢেকে গেছে সাদা ঘন মেঘে। উপরের প্রথম ছবিটায়, যা বরফ বা সমুদ্র বলে মনে হচ্ছে, আসলে তা ঘন মেঘ। সকালে উঠে এই দৃশ্যই দেখেছিলাম।  আমরা মেঘের উপরে, মেঘ আমাদের নিচে। এ অভিজ্ঞতা জীবনে প্রথম,এক  অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। চারিদিক নিঃস্তব্ধ, অদ্ভুত প্রশান্তি, একেই বোধহয় বলে সেরেনিটি (SERENITY)।
এই বিশাল নিঃস্তব্ধ সীমাহীন উপত্যকায়, বিশাল হিমালয়ের কোলে নিজেকে অতি ক্ষুদ্র মনে হয় এবং মনের  সঙ্কীর্নতা দূর হয়ে যায়। এই পরিবেশে মানুষের মনে একটা পরিবর্ত্তন  আসে।যাদের আসে না তারা প্রকৃতিকে ভালবাসে না ।
১৯২৯ সালে মহাত্মা গান্ধী এখানে কিছুদিন বাস করেছিলেন এবং অনাশক্তি  যোগ অভ্যাস করেছিলেন এবং “অনাশক্তি আশ্রম” প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s