Why do we shout in anger?

একদিন এক শিক্ষক তার ছাত্রদের প্রশ্ন করলেন- “তোমরা কি বলতে পারো, আমরা যখন অনেক বেশি রেগে যাই, তখন চিৎকার করি কেন ?”

সবাই বেশ কিছুক্ষণ চিন্তা করার পর একজন ছাত্র উত্তর দিলো-
” কারণ রেগে গেলে আমরা নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারাই তাই একটা পর্যায়ে চিৎকার করে ফেলি।”
“কিন্তু আমরা যার উপর রাগ করি সেই মানুষটি তো আমাদের সামনেই থাকে তবুও কেন আমাদের কে চেঁচিয়ে তার সাথে কথা বলতে হবে?
নরম স্বরে, আস্তে কথা বললেও তো সে শুনতে পাবে। তাই না ?”
ছাত্ররা অনেক চিন্তা করেও শিক্ষকের এই প্রশ্নের কোন সঠিক উত্তর খুঁজে পেলো না।

তখন শিক্ষক ব্যাখা করলেন-
“দুটো মানুষ যখন একে অপরের উপর রেগে যায় তখন তারা একে অন্যের অন্তর থেকে দূরে সরে যায়।
এই রাগ তাদের অন্তরের মাঝেও দুরত্ব সৃষ্টি করে।
সেই দুরত্ব একটু একটু করে যত বাড়তে থাকে ততই তাদের রাগ বা ক্রোধ বেড়ে যায় এবং তখন তাদেরকে আরও চিৎকার করতে হয়, আরও জোরে তর্ক করতে হয়।”
“আবার যদি আমরা ভেবে দেখি, দুজন মানুষ যখন একে অন্যের প্রেমে পড়ে বা ভালোবাসে তখন কী হয় ?
তখন ভালোবাসার বন্ধনে থাকা মানুষ দুজন একে অন্যের সাথে
* ধীরে ধীরে
* নরম স্বরে,
* আবেগ নিয়ে কথা বলে।
কারণ যারা ভালোবাসে তারা একে অন্যের অন্তরের খুব কাছে থাকে।
আর যারা অন্তরের কাছে থাকে তাদের কথা শুনতে হলে চিৎকার করার কোন প্রয়োজন পড়ে না। এমনকি শুধুমাত্র ফিস্ ফিস্ করেও তারা তখন কথা বলতে পারে।”
-“যারা আরও বেশি গভীরভাবে একে অন্যকে অনুভব করতে পারে, ভালোবাসতে পারে তখন কী হয় তা কি আমরা জানি ?”
“অদ্ভুত সুন্দর ব্যাপার হলো, তাদের তখন ফিস্ ফিস্ করেও কথা বলতে
হয় না।
তারা দুজন যখন একে অন্যের চোখের দিকে তাকায় তখনই অন্তরের
অনুভূতি,
। কথা,
শব্দমালা
সব অনুভব করে ফেলতে পারে।
কারণ তখন তাদের অন্তর তাদের-কে “এক” করে ফেলে।
তাদের কথা হয় তখন অন্তরে অন্তরে।”

(ব্রাজিলের বিখ্যাত এবং বেস্টসেলার লেখক *পাওলো কোয়েলহো* ঠিক এমন করে লিখেছেন তার “30 SEC READING: why do we shout in anger?” গল্পে।
যিনি বিশ্বাস করেন “প্রত্যেকটা মানুষই এক একটা জাদুকর”।
কী অদ্ভুত সুন্দর আর ইতিবাচক ওঁর ভাবনা, গল্প এবং বিশ্বাস। মন শান্ত হয়ে গেলো এই গল্পটা পড়ে।)

Advertisements