Pin drop silence

পিনড্রপ সাইলেন্স
————————-

পিনড্রপ সাইলেন্স (সম্পূর্ণ/চরম নিস্তব্ধতা) মানে কি? চলুন, নিচের ঘটনাগুলি পড়া যাক। প্রতিক্ষেত্রেই নীরবতা শব্দের থেকে বেশি বাঙময়।

ঘটনা ১
———–

ফিল্ড মার্শাল স্যাম বাহাদুর মানেকশ একবার গুজরাটের আহমেদাবাদে এক জনসভায় ইংরাজিতে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। জনতা দাবি তুললো গুজরাটিতে বক্তৃতা দেওয়া হোক, তবেই তারা শুনবে।

মানেকশ জনতার দিকে কঠোর দৃষ্টিতে একবার তাকিয়ে নিয়ে বলতে শুরু করলেন।

“আমি আমার দীর্ঘ জীবনে অনেক যুদ্ধ লড়েছি।
শিখ রেজিমেন্টের কাছে পাঞ্জাবি শিখেছি।
মারাঠা রেজিমেন্টের কাছে মারাঠি শিখেছি।
তামিল শিখেছি তামিল সৈন্যদের কাছ থেকে।
বাংলা শিখেছি বাঙালি সৈন্যদের কাছ থেকে।
বিহার রেজিমেন্ট আমাকে হিন্দি শিখতে সাহায্য করেছে।
এমনকি গুরখা রেজিমেন্টের কাছে নেপালিও শিখেছি।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোনও গুজরাটি সৈন্যের সাথে আমার এজীবনে পরিচয় হয়নি যার কাছে আমি গুজরাটি শিখতে পারি।”

জনতার মাঝে নেমে এলো পিনড্রপ সাইলেন্স!

ঘটনা ২
———–

Robert Whiting, একজন ৮৩ বছর বয়সী আমেরিকান নাগরিক প্লেনে করে প্যারিস এয়ারপোর্ট পৌঁছলেন। বয়স হওয়ার দরুন তিনি কাস্টমস কাউন্টারে নিজের পাসপোর্টটি খুঁজতে একটু বেশি সময় নিচ্ছিলেন।

“আপনি কি আগে কখনও ফ্রান্সে এসেছেন?” তরুণ কাস্টমস অফিসার জিজ্ঞেস করলেন।

“হ্যাঁ, এসেছি।” Whiting উত্তর দিলেন।

“তাহলে এখানে যে নিজের পাসপোর্ট দেখানোর জন্য আগে থেকেই বার করে রাখতে হবে, সে জ্ঞান আপনার থাকা উচিত।” কাস্টমস অফিসার উপহাস করলেন।

“আগের বার যখন এসেছিলাম, পাসপোর্ট দেখাতে হয়নি।”

“অসম্ভব! আমেরিকানরা যখনই ফ্রান্সে আসে, তাদের পাসপোর্ট দেখাতেই হয়।”

আমেরিকান ভদ্রলোক দীর্ঘ সময় তরুণ কাস্টমস অফিসারের দিকে তাকিয়ে থেকে বলতে শুরু করলেন-

“ওয়েল, আমি যখন ১৯৪৪ সালের ৬ই জুন (D-Day) ভোর ৪:৪০এ মিত্রপক্ষের অন্যান্য সৈন্যদের সঙ্গে Omaha বীচে এসে নেমেছিলাম তোমাদের দেশকে স্বাধীন করার এবং হিটলারকে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে, তখন কিন্তু সেখানে একজন ফরাসীকেও আমাদের পাসপোর্ট পরীক্ষা করার জন্য উপস্থিত থাকতে দেখিনি।”

সমগ্র ফরাসী পাসপোর্ট অফিসে নেমে এলো পিনড্রপ সাইলেন্স!

ঘটনা ৩
———–

১৯৪৭ সাল। আমাদের দেশ তখন সদ্য স্বাধীন হয়েছে। জওহরলাল নেহরু সাময়িকভাবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। সেইসময় একদিন এক বৈঠক ডাকা হলো ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রথম সর্বাধিনায়ক (Commnder-in-Chief) নিয়োগ করার উদ্দেশ্যে। সেই বৈঠকে নেহরু প্রস্তাব রাখলেন যে একজন ব্রিটিশ অফিসারকেই এই পদ দেওয়া উচিত কারণ আধুনিক যুদ্ধের ও সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের কারোর কোনও অভিজ্ঞতা নেই।

বৈঠকে উপস্থিত সমস্ত সদস্যের মুখে কোনও কথা নেই। সবাই ব্রিটিশ শাসন ও ব্রিটিশ শিক্ষায় অভ্যস্ত। সেবা করতে জানেন কিন্তু নেতৃত্ব দিতে জানেন না।

কিছুক্ষণ পরে সেনাবাহিনীর এক অভিজ্ঞ অফিসার নাথু সিং রাঠোর কিছু বলার অনুমতি চাইলেন। নেহরু বিস্মিত হলেও তাঁকে অনুমতি দিলেন।

রাঠোর নেহরুকে বললেন “হ্যাঁ, আপনার কথাই ঠিক। একইভাবে যেহেতু আমাদের দেশ চালানোর কোনও অভিজ্ঞতা নেই, সুতরাং দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীও একজন ব্রিটিশ হওয়া উচিত।”

বৈঠকে নেমে এলো পিনড্রপ সাইলেন্স!

অনেকক্ষন পর নেহরু নীরবতা ভাঙলেন।

“অফিসার রাঠোর, আপনি কী ভারতীয় সেনাবাহিনীর দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত?” নেহরুর প্রশ্ন।

“আমার মনে হয় জেনারেল কারিয়াপ্পা এই পদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।” রাঠোরের জবাব।

এইভাবেই ফিল্ড মার্শাল কারিয়াপ্পা স্বাধীন ভারতের সেনাবাহিনীর প্রথম সর্বাধিনায়ক হয়েছিলেন আর নাথু সিং রাঠোর প্রথম লেফটেন্যান্ট জেনারেল।

(ইংরাজি থেকে বাংলা অনুবাদ। ইংরাজি পোস্টটি সংগৃহীত)

Advertisements

English Teacher

*Not Easy to be a Teacher !!!!!*

*TEACHER* : John is climbing a tree to pick some mangoes. ( Begin the sentence with Mangoes)
*Student* : Mangoes, John is coming to pick you
.
. 😁😁😁😁😁😁
.
*Definitely Not Easy to be a Teacher !!!!!*
.
*TEACHER* : What do you call mosquitoes in your language?
*Student*: We don’t call them, they come on their own.
.
. 😬😬😬😬😬😬
.
*TEACHER* : How can we keep our school clean?
*Student*: By staying at home.
.
. 😊😊😊😊😊😊
.
*English Grammar class.*

Teacher: What’s the difference between *”He cleans the plate”* and *”the plate is cleaned by him.”*

Student: In first sentence *’HE’ is not married,* but in second sentence *’He’ is married….*
.
😬😬😬😬😬😬
.Teacher asks a student –
“ Please Translate the following sentence in Hindi.”
“There was a fine line between Amitabh and Jaya.”

Student translates in Hindi-
“ Amitabh Aur Jaya Ke Beech Ek Mast Rekha Thi” 😄😄
👌👌😂😂👌👌
The ultimate & the most encouraging
logic in English Grammar:-

‘If more than one mouse is mice,
then more than one Spouse is Spice.’

English Teacher

*Not Easy to be a Teacher !!!!!*

*TEACHER* : John is climbing a tree to pick some mangoes. ( Begin the sentence with Mangoes)
*Student* : Mangoes, John is coming to pick you
.
. 😁😁😁😁😁😁
.
*Definitely Not Easy to be a Teacher !!!!!*
.
*TEACHER* : What do you call mosquitoes in your language?
*Student*: We don’t call them, they come on their own.
.
. 😬😬😬😬😬😬
.
*TEACHER* : How can we keep our school clean?
*Student*: By staying at home.
.
. 😊😊😊😊😊😊
.
*English Grammar class.*

Teacher: What’s the difference between *”He cleans the plate”* and *”the plate is cleaned by him.”*

Student: In first sentence *’HE’ is not married,* but in second sentence *’He’ is married….*
.
😬😬😬😬😬😬
.Teacher asks a student –
“ Please Translate the following sentence in Hindi.”
“There was a fine line between Amitabh and Jaya.”

Student translates in Hindi-
“ Amitabh Aur Jaya Ke Beech Ek Mast Rekha Thi” 😄😄
👌👌😂😂👌👌
The ultimate & the most encouraging
logic in English Grammar:-

‘If more than one mouse is mice,
then more than one Spouse is Spice.’

কুড়ি বছর পরে

কুড়ি বছর পরে

জীবনানন্দ দাশ

আবার বছর কুড়ি পরে তার সাথে দেখা হয় যদি!
আবার বছর কুড়ি পরে—
হয়তো ধানের ছড়ার পাশে
কার্তিকের মাসে—
তখন সন্ধ্যার কাক ঘরে ফেরে— তখন হলুদ নদী
নরম-নরম হয় শর কাশ হোগলায়— মাঠের ভিতরে।

অথবা নাইকো ধান খেতে আর;
ব্যস্ততা নাইকো আর,
হাঁসের নীড়ের থেকে খড়
পাখির নীড়ের থেকে খড়
ছড়াতেছে; মনিয়ার ঘরে রাত, শীত আর শিশিরের

জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি-কুড়ি বছরের পার—
তখন হঠাৎ যদি মেঠে পথে পাই আমি তোমারে আবার!

হয়তো এসেছে চাঁদ মাঝরাতে একরাশ পাতার পিছনে
সরু-সরু কালো-কালো ডালপালা মুখে নিয়ে তার,
শিরীষের অথবা জামের,
ঝাউয়ের— অামের;
কুড়ি বছরের পরে তখন তোমারে নাই মনে!

জীবন গিয়েছে চ’লে আমাদের কুড়ি-কুড়ি বছরের পার—
তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার!

তখন হয়তো মাঠে হামাগুড়ি দিয়ে পেঁচা নামে—
বাবলার গলির অন্ধকারে
অশথের জানালার ফাঁকে
কোথায় লুকায় আপনাকে!
চোখের পাতার মতো নেমে চুপি কোথায় চিলের ডানা থামে—

সোনালি-সোনালি চিল— শিশির শিকার ক’রে নিয়ে গেছে তারে—
কুড়ি বছরের পরে সেই কুয়াশায় পাই যদি হঠাৎ তোমারে!

KrishnaKali / কৃষ্ণকলি

কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি, কালো তারে বলে গাঁয়ের লোক।
মেঘলা দিনে দেখেছিলেম মাঠে কালো মেঘের কালো হরিণ-চোখ।
ঘোমটা মাথায় ছিল না তার মোটে, মুক্তবেণী পিঠের ‘পরে লোটে।
কালো? তা সে যতই কালো হোক, দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ।
ঘন মেঘে আঁধার হল দেখে ডাকতেছিল শ্যামল দুটি গাই,
শ্যামা মেয়ে ব্যস্ত ব্যাকুল পদে কুটির হতে ত্রস্ত এল তাই।
আকাশ-পানে হানি যুগল ভুরু শুনলে বারেক মেঘের গুরুগুরু।
কালো? তা সে যতই কালো হোক, দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ।
পূবে বাতাস এল হঠাৎ ধেয়ে, ধানের ক্ষেতে খেলিয়ে গেল ঢেউ।
আলের ধারে দাঁড়িয়েছিলেম একা, মাঠের মাঝে আর ছিল না কেউ।
আমার পানে দেখলে কি না চেয়ে আমি জানি আর জানে সেই মেয়ে।
কালো? তা সে যতই কালো হোক, দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ।
এমনি করে কালো কাজল মেঘ জ্যৈষ্ঠ মাসে আসে ঈশান কোণে।
এমনি করে কালো কোমল ছায়া আষাঢ় মাসে নামে তমাল-বনে।
এমনি করে শ্রাবণ-রজনীতে হঠাৎ খুশি ঘনিয়ে আসে চিতে।
কালো? তা সে যতই কালো হোক, দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ।
কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি, আর যা বলে বলুক অন্য লোক।
দেখেছিলেম ময়নাপাড়ার মাঠে কালো মেয়ের কালো হরিণ-চোখ।
মাথার ‘পরে দেয় নি তুলে বাস, লজ্জা পাবার পায় নি অবকাশ।
কালো? তা সে যতই কালো হোক, দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ॥

সৌ: গীতবিতান

রবিন্দ জনতি

রবিন্দ জন্তি

বলাই দাস
———————————

— দাদ্দু, আমরা এলাম ।
— তোমরা কারা , বাবারা ? কেনইবা এলে ?
— আমরা পাড়ার সান্সকিতিক কম্মি । এলাম আপনাকে ইনভাইট কত্তে ।
— তাহলে ঐ মূর্তির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছ কেন ?
— আরে , এই নভেল কবির জন্যেই তো এলাম । কটা সেলফি নেব না ওনার সাতে ? আমরা কাল পাড়ায় রবীন্দজন্তি করচি ।
— সেটা কী বস্তু ?
— রবীন্দনাথের ‘হ্যাপ্পি বাড্ডে’ ।
— ওহ ! তা আমায় আবার কেন ?
— রাস্তার ধারে বড় বাড়ি দেকে ঘুসে গেলাম । মাল্লু লাগবে না ? চাঁদা নিতে এসিচি । বিশ্বকবির জন্যে বিশ্ব বাংলা ধামাকা চাই ! আপনার যা বাড়ি , আমাদের ইনভিটিশন বলচে , আপনি রীচ গাই । মানে মালদার গরু ।
— গরু ?
— সম্মান দিলাম আর কি । এখন তো গাই’দের গানই গাই !
— আচ্ছা , আচ্ছা । তা ‘বাড্ডে’তে কী হচ্ছে ?
— কী হচ্চে না বলুন ? ইনগ্রেশনে আসচেন মিস্ চুলবুলি ।
— চুলবুলি ?
— ইয়েস । “ধা নি সা রে” খ্যাত সিঙ্গার । আপনি টিবি দেকেন না , নাকি ?
— টিবি তো আমার নেই , বাবা ! তা মিস চুলবুলি কি রবীন্দ্রসংগীত গান ?
— গান । তবে সে হল এস্পেরিমান্টাল রবীন্দসংগীত । মোমবাতি হাতে ড্যান্স করতে করতে যকন পোদীপ জ্বালবেন না , আহাঃহাঃ , কবির ছবিও নেচে উঠবে । শুনিচি কবি নাকি শান্তিনিকেতনে নিজেই খুব ড্যান্স করতেন , গালফেন্ড নিয়ে । ওনার অনারেই তো চুলবুলি কে আনচি ।
— সত্যি বাবা , কবি বেঁচে থাকলে খুব খুশি হতেন । তা আমিও শুনেছি , রবীন্দ্রনাথ কবিতা ভালই লিখতেন । তোমাদের সভায় কবিতা হবে না ?
— কী যে বলেন ? আমাদের দাদা পুরো সান্সকিতিক মানুষ । নিজেও কবিতা লেকেন । আমাদের বলে দিয়েচেন , ফানশন সিরিয়াস করতে হবে । কবিতা , বত্তিতা সব থাকচে । রক কবি ভোলা খ্যাপা ‘দুজ্ঞম গিরি’ রিসিট করবেন । তবে কবিতার মিউজিকটা এখনো কোন্ ব্যান্ডকে দেব , সেটা ঠিক হয়নি ।
— কবিতার মিউজিক ?
— ইয়েস ! আরে পিচনে গীটার , ড্রাম এসব না দিলে , ঐ প্যানপ্যানানি কে শুনবে , দাদ্দু ?
— কিন্তু দুর্গমগিরি তো রবীন্দ্রনাথের লেখা নয় !
— নয় ? নাই হল । কোনো কবি তো লিকেচে , নাকি ? আসল কতা হল , রিদিম চাই । ঐ কবিতায় হেব্বি রিদিম আছে , দেশোপেমও আছে । দাদা খুশি হয়ে যাবেন ।
— ওহ ! আর বক্তৃতা কে দেবেন ?
— কেন , হাতকাটা কাল্লুদা !
— এই হাতকাটাবাবু কী করেন ,বাবা ?
— ও বাবা , এঁর কতা জানেন না ? আমাদের কেলাবের পেসিডেন । আগে মাসল দেকাতেন , এখন বিরোধীদের সাথে টাস্ল দেকাচ্চেন । তাইতেই বাঁ হাতটা স্যাক্রিফাইস কল্লেন । রবীন্নাথের সাথে খুব মিল ।
— কীসের মিল ?
—- কবিও ইস্কুল পালিয়েচেন , ইনিও ইস্কুল পালিয়েচেন । এক কাটি এগিয়ে দু একটা মাস্টারকে ঠেঙিয়েওচেন । কবি বলেচেন , “খোলা হাওয়া” চাই । কাল্লুদা তো অক্সিজেন সিলিন্ডার বগলে নিয়েই ঘোরেন । মাঝেমাঝে চুক চুক টেনে নেন । তারপর কবির বিজনেস ফ্যামিলি । এনারও পোমোটিং এর বিশাল ব্যাওসা । একানে কোথায় যেন একটা ঠাকুর বাড়ি আছে , সেটাও ভেঙে মাল্টিপারপাস তুলবেন বলেচেন । আবার কবি গেয়েচেন , “আমার পানের মাজে সুদা আচে , চাও কি ?” কাল্লুদাও পাণের মাজেই থাকেন । তার উপর , ওনার তের নম্বর গাল ফ্রেন্ডের নাম সুদাই ছিল । শুনিচি বৌদির সাতে কবির এট্টু ‘ইয়ে’ ছিল । কাল্লুদার তো পাড়া সুদ্দ সব বৌদির সাতেই….! হেঁ হেঁ ! তাই কাল্লুদাই আমাদের লেন্স দিয়েচেন , কীকরে কবির পদান্ন ফলো কত্তে হয় ।
— আচ্ছা , আচ্ছা । তা অনুষ্ঠান শেষ কী দিয়ে হবে ?
— শ-রচিত রবীন্নসংগীত দিয়ে ।
— সেটা কী বাবা ?
— দেকুন , একন রবীন্নসংগীত অনেক পোকার । রক-রবীন্ন , পপ-রবীন্ন , ধুপদী- রবীন্ন , জীবনমুখী-রবীন্ন। তেমনি শ-রচিত রবীন্ন। গাইবেন কলি কেতা ।
—কলিকাতা তো এই শহরের নাম ?
— কলিকাতা নয় , কলি কেতা । হেব্বি পপুলার সিঙ্গার । পুরো সুশীল । ক’টা ওনার লাকি এলফেট ।
— এই কলিবাবু নিজেই রবীন্দ্রসঙ্গীত লেখেন ?
—ইয়েস! তবে একে বলে অনুপ্পেরণা । বাংলায় ইসপিরেশন । কবির অনুপ্পেরণায় লেখেন , আবার গানও ।
— ওঁর একটা গান শোনাও তো বাবা ।
— মুশকিলে ফেললেন দাদ্দু । আমার গলায় কি আর মেল্ডি আচে ? তার উপর চিয়ার লীডার নেই !
— চিয়ার লীডার?
— তো ? আরে আমি ওই পুচিপুচি মেয়েগুনোর কতা বলচি , যারা না-পোশাক পরে গানের পিচনে ড্যান্স করবে আর হাসবে । ব্যাস , অডিয়েন্স চীয়ার ! নইলে , হাম্মোনিয়াম বাগিয়ে ঐ টিবি-রুগীর টিকটিকানি কে শুনবে , বাওয়া ?
— না-পোশাক মানে ?
— মানে পোশাক আচেও বটে , আবার নেইও বটে । ঐ যে কবি বলেচেন , ‘এটা নয় , এটা নয় , অন্য…..’ ।
— থাক থাক বাবা , বুঝেছি । তা গানের লীরিকটা , মানে পদ্যটাই একটুখানি শুনিয়ে দাও ।
—“ভেঙে মোর ইয়েল লকটা , দুষ্টু লোকটা ইলোপ করবে ?/ও সোনিয়ে মেরি !/ডার্লিং , আমায় টানলে , বাকিরা জানলে , হামলে পড়বে !/ও সোনিয়ে মেরি !”
— বাহ । বাহ । কিন্তু কিছু শব্দ যেন ঠিক বাংলা বলে মনে হল না , বাবা !
— দাদ্দু , বেঙ্গলি একন ইন্টারন্যাশনাল ভাষা । আপনাদের মতো নীরো মাইন্ডেড লোকেদের যুগ আর নেই । একন বাংলায় এট্টু ইংলিশ , এট্টু হিন্দি , এমনকি তামিল , হিব্রুও থাকতে পারে । এটা বিশ্ব বাংলার যুগ । যাগ্গে অনেক বকালেন । নিন , বিল নিন । মাল্লু ছাড়ুন ।
— সে কি বাবা, টাকা দেবার আগেই , বিল কেটে দিলে ।
— নিচ্চই । এটা যুগের ধম্মো । ডিসিশন বিফোর ডিস্কাশন । দাদার শিক্কা বলে কতা !
— দেখ বাবা , আমি পুরোনো দিনের মানুষ । আমার অতো টাকাপয়সা নেই।। তোমরা ‘নভেল’ কবির জন্মদিন করবে।। তাই এক অসহায় কবির একটা ‘নোবেল’ জিনিস তোমাদের দিচ্ছি।। খাঁটি সোনার । এ দিয়ে তোমাদের প্রায় সব খরচই মিটে যাবে ।
— একি।, এ তো একটা মেডেল।। অন্দকারে ঠিক দেকতে পাচ্চি না।। তবে ভারি আচে ।
— হ্যাঁ বাবা , ভারিই বটে।। ঘরের চোরে চুরি করবে বলে , এদ্দিন লুকিয়ে রেখেছিলাম , নিজেই।। এখন সময় এমন , যে এর ভার আমি আর বইতে পারছি না। এ মেডেল তোমাদেরই মানায় , বাবা ।
— থ্যাঙ্কু দাদ্দু । তবে আপনাকে স্যাড লাগচে । ছেলেরা যে কেয়ার টেক করে না , উলটে টাকা পয়সা হাপিস করে , দেকেই বুইতে পারচি । সেরম হলে বলবেন।, পেঁদিয়ে সুইজারল্যান পাটিয়ে দেব । আর হ্যাঁ , বাড়িটা কাল্লুদা-কে দিয়ে , আমাদের পাড়ার বিদ্দাবাসে চলে আসতে পারেন । হেব্বি জায়গা । হসপিটাল কাচে ,শ্মশান কাচে । কোনো পবলেম হবে না । মিত্যু পেলে , সোজা চিতেয় গিয়ে লম্বা হয়ে যাবেন । বিদ্দাবাসের নাম– “ঘাটের কতা” ।
—- আচ্ছা বাবা । “ঘাটের কথা” আমি ভেবে দেখব ।
— চলি তাইলে । ফানশনে আসবেন কিন্তু । সিনিয়ার সিটিজেন চেয়ার ম্যানেজ করে দেব । চুলবুলির একদম সামনে ! বাই দাদ্দু ।

অন্ধকার নেমে গেলে , বৃদ্ধ মানুষটি সদরের পাশের মূর্তিটির সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন । করুণ হেসে বললেন — “ভাগ্যিস , আপনিও দাড়ি রেখেছিলেন , বাবামশাই । তাই আজ আপনার সেলফি হল” ।
তারপর , ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে গেলেন । পড়ার টেবিলের সামনে বসে , হলদে মলাটের বইটি টেনে নিলেন কম্পিত হাতে ।
বই-এর একটি কবিতার শেষ-লাইন লাল কালিতে কেটে , বৃদ্ধ লিখলেন —
“আমায় কেন দিলে আমার সকল শূন্য করে ?”
সংগৃহীত