প্রার্থনা

তোমার বাহুর বন্ধনে বাঁধো মোরে,

রাখ মোরে তোমার দৃষ্টিতে,

দিয়োনা যেতে আমারে দূরে।

হতে দিয়োনা আমারে শিকার,

নিয়ে চল দূরে কোথাও,

প্রেমে যেন পড়ি না আবার।

বাঁধো মোরে তোমার আলিঙ্গনে,

বাহুপাশে কর মোরে বন্দী,

যেতে দিয়োনা আমারে বিপথে।

হতে দিয়োনা আমারে শিকার,

নিয়ে চল দূরে কোথাও,

প্রেমে যেন পড়ি না আবার।

~~~~~~~~

31 Dec 2016, Copyright © Bichitraa 2016, all rights reserved.

Take me away” by Asha inspired me to compose this poem in Bengali.

Advertisements

মোবাইলহীনা

আজ আমাদের মোবাইল ফোন ছাড়া এক মুহুর্ত চলে না। এটা আমাদের জীবনের একটা অঙ্গ হয়ে গেছে। মোবাইলহীন জীবনটা এখন ভাবাই যায় না। কিন্তু এটাওতো  সত্য মোবাইলহীন জীবনও আমরা দেখেছি। এখন অনেক ঘটনা মনে পড়ে, মনে হয়, সেইসময় যদি মোবাইল ফোন থাকত তাহলে ঘটনাটা অন্যরকম হত। তখন মোবাইলহীন জীবনে অনেক মজার ঘটনাও ঘটত। সে রকমই একটি ঘটনা আমার এক মহিলা সহকর্মী বলেছিল। তার সেই গল্পটাই আজ এখানে বলব।তার মুখ দিয়েই শোনা যাক।

আমি তখন চাকুরীতে যোগ দিয়েছি এবং সবে বিয়েও হয়েছে।   আমি কলকাতার কাছের এক মফঃস্বল অঞ্চল থেকে অফিস করতাম। একদিন অফিসের পর বইপাড়ায় (কলেজ ষ্ট্রীট ) গিয়ে কিছু বই কিনতে যাবার জন্য আমি আমার Hubby কে শিয়ালদহ ষ্টেশনে আসতে বলেছিলাম, ফিরতে দেরী হবে বলে। সেখান থেকে দুজনে একসঙ্গে কলেজ ষ্ট্রীটে গিয়ে বই কিনে বাড়ী ফিরবো – এই ছিল প্ল্যান।

কথা মতই কাজ ।আমি অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে সময়ের আগেই শিয়ালদহ ষ্টেশনে পৌঁছে গেলাম, এবং তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। শিয়ালদাহ ষ্টেশনে তখন  সেরকম বসার কোন ব্যাবস্থা  ছিল না । কিন্তু মোটা মোটা থামের চারপাশে সিমেন্টের বাঁধানো বসার ব্যাবস্থা  ছিল। প্রয়োজনে সবাই সেগুলোকেই সবাই ব্যাবহার করতো ।  আমিও সময় আছে দেখে একটা থামের ওই বেঞ্চে বসে তার জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম ।

এদিকে সেও নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই শিয়ালদহ পৌঁছে যায় । থামের আড়ালে বসা  আমাকে দেখতে না পেয়ে, ভাবলো অফিস থেকে দেরীতে বেরিয়েছি হয়ত, তাই আসতে দেরী হচ্ছে।  এই সব ভেবে আমার জন্য অপেক্ষা করার জন্য সেও একটা থামের বেঞ্চে বসেছিল। মোবাইলহীন যুগে এছাড়া করারই বা কি ছিল ! এখন হলে এর মধ্যে কতবার ফোন করা হয়ে যেত।  আমরা দুজনেই অপেক্ষা করতে লাগলাম। সময় তার মত কেটে গেল, দেরী হচ্ছে দেখে মনটা অস্থির অস্থির হতে লাগলো। আমি এবার উঠে পড়লাম ।  পায়চারি করতেই  দেখি সে আমার থামের উল্টোদিকে বসে একটা মাগাজিনে মগ্ন। মজার কথা হল আমরা একই থামের দুইপাশে বসে অপেক্ষা করে চলেছি ।থামটা মোটা বলে আমরা কেউ কাউকে দেখতে পাই নি।আমি হাসতে হাসতে সামনে গিয়ে দাড়ালাম। আমাকে দেখেই বলল – এত দেরী ? আমি বললাম কোথায় দেরী! আমি অনেকক্ষন এসেছি। তুমি আমার পেছনে বসে ছিলে, দেখতে পাওনি ? হাসিই পাচ্ছিলো। কেউ কাওকে  দোষারোপ করতে পারলাম না কিন্তু নিজেদের বোকামির জন্য হাসিও পাচ্ছিলো । দিনটা নষ্ট হল।
সেদিন কলেজ ষ্ট্রীট যাওয়া মাথায় উঠলো। কিছু টুক টাক খেয়ে ফিরতি ট্রেনে উঠে পড়লাম। তখন অফিস ভীড় শুরু হয়ে গেছে। দুজন একসঙ্গে বাড়ী ফিরছি এটাই ছিল সেদিনের বড় পাওনা। এই মজার  ঘটনা এখনও মনে পড়লেই হাসি পায়। অনেক সময় মনে মনে হাসি। আজ হটাত মনে পড়লো তাই আপনাকে না বলে পারলাম না। এখন ভাবি – তখন আজকের এই মোবাইল নামক যন্ত্রটা  ( ফোন) থাকলে এই হাস্যকর পরিনতিটা হত না সেদিন । ভেবে অবাক হই, একটি থামের আড়ালে দুজনে বসে সময় কাটিয়ে বাড়ী ফিরে এলাম শেষে।

কাজলা দিদি

আমরা ছাত্রাবস্থায় কিছু কবিতা পড়েছিলাম, কিছু কিছু এখনও মনে গেঁথে আছে। সেরকমই একটা কবিতা এখানে দিলাম, আশা করি আপনাদের পুরানো স্মৃতি উস্কে দেবে, হয়ত ভাল লাগবে —

কাজলা দিদি

বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই–
মাগো, আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই ?
পুকুর ধারে, নেবুর তলে
থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে,–
ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা, একলা জেগে রই;
মাগো, আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?

সে দিন হতে দিদিকে আর কেনই বা না ডাকো,
দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো ?
খাবার খেতে আমি যখন
দিদি বলে ডাকি তখন,
ওঘর থেকে কেন মা আর দিদি আসেনাকো,
আমি ডাকি, – তুমি কেন চুপটি করে থাকো ?

বল মা দিদি কোথায় গেছে, আসবে আবার কবে?
কাল যে আমার নতুন ঘরে পুতুল বিয়ে হবে!
দিদির মতন ফাঁকি দিয়ে
আমিও যদি লুকাই গিয়ে–
তুমি তখন একলা ঘরে কেমন করে রবে?
আমিও নাই, দিদিও নাই – কেমন মজা হবে!

ভুঁইচাঁপাতে ভরে গেছে শিউলি গাছের তল,
মাড়াস নে মা পুকুর থেকে আনবি যখন জল;
ডালিম গাছের ডালের ফাঁকে
বুলবুলিটি লুকিয়ে থাকে,
উড়িয়ে তুমি দিয়ো না মা ছিঁড়তে গিয়ে ফল;–
দিদি এসে শুনবে যখন, বলবে কি মা বল!

বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ ঊঠেছে ওই–
এমন সময়,মাগো,আমার কাজলা দিদি কই?
বেড়ার ধারে পুকুর পাড়ে
ঝিঁঝিঁ ডাকে ঝোপে ঝাড়ে ;
নেবুর গন্ধে ঘুম আসেনা -তাইতো জেগে রই;-
রাত হল যে,মাগো, আমার কাজলা দিদি কই?
By : যতীন্দ্রমোহন বাগচী

পথের পাঁচালী -কিছু অজানা কথা

pother-panchaliআমাদের প্রিয় লেখক শঙ্কর আনন্দবাজারের প্রতিনিধি হিসাবে একদা সত্যজিৎ রায়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন, পথের পাঁচালি মুক্তির (১৯৫৫) ৩০ বছর পর। আমরা সবাই জানি “পথের পাঁচালি” সত্যজিৎ রায়ের প্রথম প্রছেষ্টা। সত্যজিৎ  রায় তখন “সত্যজিৎ রায়” হননি, তাই তখন তাঁর “পথের পাঁচালি” নিয়ে অনেক কথা, অনেক সমালোচনা  তখন হয়েছিল। অনেক ঘটনা, সমালোচনা হয়েছিল আমরা তা জানি না। লেখক শঙ্কর তাঁর “চরন ছুঁয়ে যাই” বইতে কিছু কিছু লিপিবদ্ধ করেছেন। বইটা পড়ার পর, সেখান কিছু লিখে রাখার ইচ্ছে হলো । তাই কিছু কিছু  অংশ এখানে তুলে দিলাম, পাঠকদের জন্য। আশাকরি ভাল লাগবে কারন পথের পাঁচালি সংক্রান্ত কোনো কথাই কোনোদিন পুরনো হবে না।

“ছবিটা তৈরী করতে দু-আড়াই লাখ টাকা লেগেছিল। একসময় রানা অ্যান্ড দত্ত থেকে হাজার কুড়ি টাকা হুন্ডিতেও নিতে হয়েছিল। ধার চেয়েও অনেকসময় পাওয়া যায়নি। যে ভাঙ্গা বাড়ীটায় বেশিরভাগ শ্যুটিং হয়েছিল তা মাসিক পঞ্চাস  টাকায় ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। শ্যুটিং হোক  না হোক  আড়াই বছর ধরে ওই মাসিক ভাড়া গুনতে হয়েছিল। চিত্রসত্বের জন্য বিভুতি  বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার বোধহয় পেয়েছিলেন হাজার দশেক।”

“প্রডিউসারদের দ্বারস্থ না হয়ে, আমাদের নিজেদের যে সঙ্গতি আছে তাই দিয়েই কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত হলো। ইতিমধ্যেই অপু এবং দুর্গাকে পাওয়া গিয়েছে। আমরা ১৯৫৩ সালের অক্টোবর মাসে জগদ্ধাত্রী পুজোর দিনে এক কাশবনে সুটিং আরম্ভ করলাম। লোকেশন শক্তিগড়ের আগে পালশিট ষ্টেশনের কাছে।… “
সত্যজিৎ রায় শঙ্করকে বলছেন “…… এবার ভাবলাম কোনো প্রডিউসারকে আগ্রহী করা যায় কিনা। ধর্মতলায় প্রডিউসারদের দরজায় দরজায় ঘুরেছি, কত লোককে বার বার শুনিয়েছি, জুতোর গোড়ালি ক্ষয়ে  গিয়েছে, কিন্তু কাউকে রাজি করাতে পারিনি। তখন রাগ হতো, এখন দোষ দিই না এঁদের। আমাদের কারও পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। প্রডিউসারদের নিশ্চয় সন্দেহ হতো ওঁরা কি পারবেন?”

“টাকার অভাবে দীর্ঘ সময় যখন কাজ বন্ধ তখনকারযন্ত্রনার ইতিবৃত্ত নানা পত্র পত্রিকায় ছড়িয়ে রয়েছে। হটাৎ কে যেন বললো একবার ডঃ

বিধান রায়কে ধরে দেখলে হয় না?”
“বিধানবাবু আমাদের ছবি দেখলেন, খুশি হলেন এবং ছবির দায়িত্ব গ্রহন করলেন। যা নিজেদের পকেট থেকে এবং ধার করে খরচ হয়েছিল তা মিটিয়ে দিলেন এবং বাকি টাকা দেবার নির্দেশ দিলেন।”
“ছবি করতে গিয়ে মানুষ হিসেবেও আমার অনেক অভিজ্ঞতা হলো। শহরে জন্মেছি, গ্রাম এবং প্রকৃতি সম্বন্ধে প্রত্যক্ষ কোনো ধারনাই ছিল না। ….. বিভুতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের বইথেকে গ্রামকে জেনেছি, কিন্তু শুটিং করতে গিয়ে গ্রামকেভালবেসেছি, সেখানেই যে আমার শিকড় রয়েছে তা বুঝেছি।ছবিটা করতে গিয়ে শুধু ছবি তোলার অভিজ্ঞতা হয়েছে তা নয়, তাঁর বাইরেও প্রচুর অভিজ্ঞতা যা আমাকে মানুষ হিসাবে পরিণত করেছে , আমাকে দেশকে ভালবাসতে শিখিয়েছে।

সমস্ত কাজের জন্য পথের পাঁচালি থেকে সত্যজিৎ রায় আট / দশ হাজারের বেশী পাননি।সত্যজিত রায় কিন্তু ওইসব চিন্তায় মোটেই বিব্রত নন। তিনি বললেন, “কোন দুঃখ নেই। নিজের পায়ে দাঁড়াবার সুযোগটা ওখান থেকেই পেয়েছি, সেটার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। ছবিটা শেষ না হলে আমাকে বিজ্ঞাপন অফিসের দাসত্ব করতে হতো। আমি যে ফিল্মমেকার হতে পেরেছি এর জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারই দায়ী।”

পথের পাঁচালির সমালোচনার অনুরোধে গভীর চিন্তায় ডুব দিলেন সত্যজিৎ রায় । বললেন, “ছবিটা তুলেছিলাম এমনভাবে যাতে কঠিন দৃশ্যগুলো গল্পের শেষের দিকে আসে। গল্পটা গোড়া থেকে আরম্ভ করে যেরকম বিন্যস্ত সেইভাবে তুলেছিলাম। ফলে ছবিটায় শেষের দিকের কাজ প্রথম দিকের থেকে অনেক পাকা। প্রথম দিকে অনভিজ্ঞতার অনেক ছাপ রয়ে গিয়েছে। পথের পাঁচালিকে নতুন করে এডিট করতে পারলে আমি খুব খুশি হতাম।নতুন করে কাঁচি চালাতে পারলে প্রথম দিকের কিছু কিছু দীর্ঘ দৃশ্য ছোট হত। জিনিষটা আরও পরিপাটি ও ছিমছাম হতো, গতি বাড়তো। গোড়ার দিকের কিছু দৃশ্য বড্ড কাঁচা লাগে।”
সংবাদপত্রের প্রতিনিধি হিসাবে আমার ( লেখক শঙ্কর বলছেন ) কিছু অপ্রিয় দায়িত্ব থেকে যায়। তাই জিজ্ঞেস করলাম (শঙ্কর পাঠকদের জন্য),” কবে আপনি বুঝতে পারলেন যে পথের পাঁচালি বিশ্বজয়ী হতে চলেছে ?”
শঙ্কর লিখছেন । সত্যজিৎ আবার চিন্তাসাগরে ডুব দিলেন।”আমেরিকায় রিলিজ ডে তে হলের লবিতে বসে আছি। রাত তখন বোধহয় আটটা সাড়ে আটটা । হল থেকে সাদা এবং কালো মানুষ বেরিয়ে আসছেন। তাদের সকলের চোখে জল। কেও কেও আমার দিকে এগিয়ে এলেন, বললেন, কোনো ছবি এমনভাবে বুকে লাগেনি।”
আবার চিন্তা করলেন সত্যজিৎ রায়। “তবে মনে রাখবেন বিদেশ জয় করবার পর পথের পাঁচালি স্বদেশে স্বীকৃতিলাভ করেছে, এই অভিযোগ নিছকই গুজব মাত্র। প্রথম দিন থেকে দেশের মানুষ আমাকে যা প্রাপ্য তাঁর চেয়ে বিন্দুমাত্র কম দেননি।”
“গুজবের কথা যখন তুললেন, কেও কেও বলেন, ছবি শেষ হবার আগেই নেহরু পরিবার আপনাকে সাহায্য করেছিলেন।”
“আগে কিছু সাহায্য পাইনি।তবে বিদেশ মন্ত্রকের কিছু আমলা যখন ভারতবর্ষের দারিদ্রকে অতিমাত্রায় প্রচারিত করা হয়েছে এই অভিযোগে বিদেশে পথের পাঁচালি প্রদর্শনে বাগড়া দিচ্ছিলেন সেই সময়  জওহরলাল ছবিটা দেখেছিলেন। সেই শোতে ডঃ বিধানচন্দ্র রায় এবং বিজয়লক্ষী তনয়া নয়নতারা উপস্থিত ছিলেন। ছবির শেষে জওহরলাল কাঁদতে লাগলেন এবং অবশ্যই বিদেশে প্রচারের সব বাধাবিপত্তি সরিয়ে নিলেন।”
“আরেকটি গুজবঃ আনন্দবাজারে নাকি প্রথমে নিন্দা এবং পরে প্রশংসা প্রকাশিত হয়েছিল?”
“ঠিক কথা নয়। বসুশ্রী-বীণাতে মুক্তির পরের সপ্তাহেই আনন্দবাজারে লেখা হয়েছিলঃ “বিশ্বের একখানি সেরা ছবি তোলার কৃতিত্ব দেখাবার মতো প্রতিভাও যে এদেশে আছে পথের পাঁচালি দেখার আগে তা নেহাতই স্বপ্নকথা ছিল।” নিউইয়র্ক টাইমসের জাঁদরেল সমালোচক ক্রাউযার কিন্তু প্রথমে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। পরে প্রতিবাদে বহু চিঠি প্রকাশিত হতে লাগলো নিউইয়র্ক টাইমসে। তখন ক্রাউযার তাঁর মত পাল্টে আর একটি প্রশংসাসূচক সমালোচনা লেখেন।”
পুরনো গ্লানি তিরিশ বছরের দূরত্ব পেরিয়ে সত্যজিৎ রায় পুনরাবিষ্কার করতে চাইলেন না। অনেক অনুরোধের পর জানালেন, “সবচেয়ে খারাপ মন্তব্য হয়েছিল কলকাতায়। এক বিখ্যাত এবং বহুপুরস্কৃত সাহিত্যিক জানিয়েছিলেন, ছবিটি দেখে বোঝা গেল সত্যজিৎ রায় সাহিত্যের কিছুই bঝেন না।”
সবচেয়ে স্মরনীয় সমালোচনা প্রকাশিত হয়েছিল আমেরিকার ফিল্ড কোয়ার্টালিতে – আর্লিন ক্রোচে নামক এক মহিলা “দারুন রিভিউ করেছিলেন। ভদ্রমহিলা ছবির অন্তস্তলে প্রবেশ করেছিলেন, কী করে পেরেছিলেন তা আমি নিজেও জানি না।” বললেন সত্যজিৎ রায়।

Karuna Banerjee as Sarbojaya & Chunibala Devi as Indir Thakrun (Old Aunt)

ABOUT THE NOVEL :

পথের পাঁচালী (Pother Panchali), translated as Song of the Road is a novel written by Bibhuti Bhushan Bandopadhyay and was later adapted into a film of the same name by Satyajit Ray. Pather Panchali deals with the life of the Roy family (Harihar Roy, the protagonist of the story), both in their ancestral village in rural Bengal and later when they move to Varanasi  in search of a better life, as well as the anguish and loss they face during their travels. The novel was originally published in 1929, this was the first published novel by the author.

Subir Banerjee as Apu and Runki Banerjee as Durga (Child) & Uma Dasgupta as Durga  (Teenager)

Existence of God !!

mother-and-child

 Something interesting regarding those who believe and those who don’t believe in God ! It stimulates our lateral thinking. (Please open it in Mozilla Firefox or chrome browser to get the Bengali correctlyঈশ্বরে বিশ্বাস থাক বা না থাক, এই গল্পটি আমাদের ঈশ্বর সম্বন্ধীয় ধ্যান ধারনাকে একটু নাড়া দেয় । আমরা আবার ভাবতে বসি- হয়তো সত্যি – – – – থাক ! গল্পে আসা যাক। মূল গল্পটাকে রেখে অনুবাদ দেওয়া হল।
  In a mother’s womb were two babies. One asked the other: “Do you believe in life after delivery?”The other replied, “Why, of course. There has to be something after delivery. Maybe we are here to prepare ourselves for what we will be later.”  মাতৃগর্ভে দুই সন্তান (যমজ) বড় হচ্ছে। একদিন একটি সন্তান (একে “প্রথম” নামে চিহ্নিত করবো) অন্যজনকে জিজ্ঞাসা করলো : ” প্রসবের পর  জীবন আছে , তা কি তুই  বিশ্বাস করিস?” অন্যজনের (দ্বিতীয়) উত্তর : “কেন, অবশ্যই আছে। জন্মের পর আবশ্যই নতুন কিছু থাকবে। হয়তো আমরা পরবর্তীকালে যা হব আমাদের এখানে তারই প্রস্তুতি চলছে। 
“Nonsense” said the first. “There is no life after delivery. What kind of life would that be?” “ননসেন্স” বলল প্রথম জন। ” জন্মের (after Delivery)পর জীবন নেই। জীবন থাকলেও কি ধরনের জীবন হবে সেটা ?
The second said, “I don’t know, but there will be more light than here. Maybe we will walk with our legs and eat from our mouths. Maybe we will have other senses that we can’t understand now.”   দ্বিতীয় জন বলল : ” তা আমি জানি না, তবে এখানের চেয়ে অনেক বেশী আলো থাকবে সেথা । হয়ত আমরা আমাদের পা দিয়ে হাঁটব এবং মুখ দিয়ে খাবার খাবো। হয়তো আমাদের আরো কিছু অনুভূতি থাকবে যা এখন আমরা বুঝতে পারছি না।”
 The first replied, “That is absurd. Walking is impossible. And eating with our mouths? Ridiculous! The umbilical cord supplies nutrition and everything we need. But the umbilical cord is so short. Life after delivery is to be logically excluded.” প্রথম বলল : অবাস্তব। হাঁটা  অসম্ভব। মুখ দিয়ে খাওয়া? হাস্যকর ব্যাপার! নাভীর সঙ্গে যুক্ত নাড়ী দিয়েই আমাদের প্রয়োজনীয়  সব খাদ্যের জোগান পাই। এই খাদ্যের নলটা যদিও খুবই ছোট। জন্মের পর হয়ত এটা আর থাকবে না।”
The second insisted, “Well I think there is something and maybe it’s different than it is here. Maybe we won’t need this physical cord anymore.” এবার দ্বিতীয় জোর দিয়ে বলল : ” বেশ, আমার মনে হয় অন্য কিছু ব্যাবস্থা থাকবে এবং সেটা হয়ত এখানের থেকে আলাদা হবে। তখন হয়ত আমাদের এই নাভীর সঙ্গে যুক্ত নাড়ীর প্রয়োজন হবে না।”
The first replied, “Nonsense. And moreover if there is life, then why has no one has ever come back from there? Delivery is the end of life, and in the after-delivery there is nothing but darkness and silence and oblivion. It takes us nowhere.”  প্রথম জনের উত্তর :  “ননসেন্স । যদি এই মাতৃ জঠরের বাইরে জীবন থেকে থাকে, তাহলে  সেখান থেকে তো কেও ফিরে আসেনি ? প্রসবের পর আমাদের জীবন শেষ এবং প্রসবের পর অন্ধকার, নিরবতা,  বিস্মৃতি ছাড়া কিছু নেই। আমরা শেষ হয়ে যাবো।”
“Well, I don’t know,” said the second, “but certainly we will meet Mother and she will take care of us.”  দ্বিতীয় জন বলল : ” বেশ, আমি জানি না,” তবে অবশ্যই মায়ের সাথে আমাদের দেখা হবে এবং তিনি আমাদের যত্ন করবেন।”
The first replied “Mother? You actually believe in Mother? That’s laughable. If Mother exists then where is She now?”  প্রথম জনের উত্তর : ” মা ? তুই কি মায়ে বিশ্বাস করিস? এটা হাস্যকর। যদি মা থাকতেন, তাহলে এখন তিনি  কোথায়?
The second said, “She is all around us. We are surrounded by her. We are of Her. It is in Her that we live. Without Her this world would not and could not exist.”  দ্বিতীয় জন বলল : ” তিনি সর্বত্র বিরাজমান। আমরা তাঁর দ্বারা পরিবৃত হয়ে আছি। আমরা তাঁরই। আমরা তাঁরই গর্ভে বাস করছি। তাকে ছাড়া এই জগত থাকবে না, থাকতে পারে না।
Said the first: “Well I don’t see Her, so it is only logical that She doesn’t exist.”  প্রথম জনের  উত্তর : ” বেশ, আমি তো তাঁকে দেখতে পাই না, তাই এটাই যুক্তিসম্মত যে তাঁর অস্থিত্ব নেই।”
To which the second replied, “Sometimes, when you’re in silence and you focus and listen, you can perceive Her presence, and you can hear Her loving voice, calling down from above.” যার উত্তরে দ্বিতীয় জন বলল : ” কখনও কখনও নীরবে  ও একাগ্র চিত্তে শোনার চেষ্টা করলে তাঁর অস্তিত্ব অনুভব করা যায়, এবং তাঁর স্নেহভরা কন্ঠস্বর শোনা যায়, উপর থেকে তিনি ডাকছেন।” 

From  “Your Sacred self”  by Dr. Wayne Dyer

 

An evening in Paris

98e2d-eiffeltower1-bmp
কে ভেবেছিল আমি প্যারিসে আসব এবং  An Evening in Paris-এর স্মৃতি নিয়ে ফিরব।  আমরা Dinner সেরে তাড়াতাড়ি হোটেলে নির্দিষ্ট রুমের চাবি নিয়ে ফ্রেশ হয়ে পোশাক পালটে বেরোতে বেরোতে ৮-৩০/৮-৪০ মিঃ হয়েই গেল। পোশাক পাল্টানোর প্রয়োজন হল লীডো Show’র জন্য। আমাদের বলা হয়েছিল টি শার্ট বা জিন্স পরে যেন না যাই। কোট প্যান্ট টাই বা শার্ট প্যান্ট পরে যেতে বলা হয়েছিলো কারন লীডো শোতে নাকি এলিটরা যায়। কাজেই ক্যাজুয়েল পোশাকে না যাওয়াই ভাল। তাই পোশাক পাল্টাতেই হল। আমাদের টার্গেট ছিল ০৯ টার CRUISE টা ধরার। Seine (সীন) নদীতে ১ ঘন্টার ক্রুইজ। তারপর লীডো Show. আমাদের Tour Guide আগেই বলেছিল প্যারিসে ইন্ডিয়ার মত ট্রাফিক জ্যাম আছে। তাই সত্য হল। আমাদের আইফেল টাওয়ার পৌঁছাতে সাড়ে ৯টা বেজে গেল। দশটার ক্রুইজ ছাড়া উপায় নেই। ম্যানেজার আমাদের সবাইকে টিকেট দিয়ে দিল। আমরা ক্রুইজে ওঠার লাইনে দাড়ালাম। আইফেল টাওয়ার ততক্ষনে আলো জ্বলতে শুরু করেছে। প্রতি ঘন্টায় আইফেল টাওয়ার Twinkling Light জ্বলে । তারমানে দশটার সময় ক্রুইজ শুরু হবে এবং তখনি টাওয়ারের লাইট নিভে যাবে এবং Twinkling শুরু হবে। আমরা ক্যামেরা তাক করে অপেক্ষা করতে লাগলাম। আইফেল টাওয়ারের খুব কাছেই ক্রুইজের জেটি। যথাসময়ে দুটিই একসঙ্গে শুরু হল। জাহাজ থেকে যথাসাধ্য ছবি তোলার চেষ্টা করলাম।
চলন্ত জাহাজ থেকে তোলা তাই মনে হচ্ছে আইফেল টাওয়ারটাই দুলছে। আসলে জাহাজ দুলছে, আমার ক্যামেরাও দুলছে।
একঘন্টার ক্রুইজ, ১০ টা থেকে ১১টা। আবার ১১ টায় লীডো শো। সে কথায় পরে আসছি। আগে SEINE নদীতে ক্রুইজ করি। রাত ১০ টা কিন্তু এখানে সবে সন্ধ্যা হল। তাই যখন নদীর পাড় ঘেঁসে আমাদের জাহাজটা এগোচ্ছিলো তখন পাড়ে প্রচুর মহিলা পুরুষ, তরুন তরুনীরা আড্ডা, গান বাজনায় ব্যাস্ত । নদীর পাড় বাঁধানো এবং বসার ভাল ব্যাবস্থা করা আছে। তরুন তরুনীরা জোড়ায় জোড়ায় বা দল বেঁধে বসে আছে। আমাদের হাত দেখিয়ে, চিৎকার করে স্বাগত জানাচ্ছিলো।

এই সীন নদীর দুই পাড়ে  সব ঐতিহাসিক ইমারতগুলো ও প্যারিসের সব ল্যান্ডমার্ক  অবস্থিত। আইফেল টাওয়ারও এই নদীর পাড়ে। সব লাইট দিয়ে সুন্দরভাবে সাজানো। এগারোটায় আমাদের ক্রুইজ শেষ হল। এরপর লীডো শো। 

Photo Credit to WIKIPEDIA

প্যারিসের  অভিজাত Champs-Elysees এভিন্যুতে লিডো থিয়েটার। সাড়ে ১১টায় শো। বিশাল লাইন। ট্যুর ম্যানেজার ম্যানেজ করে আমদের সবার আগে যাবার ব্যাবস্থা করে দিল। আমরা ভাল সামনের সীট পেয়ে গেলাম। আমরা দুজনে একটা সোফায় বসলাম।একটু পরেই স্যাম্পেন / সফট ড্রিঙ্ক পরিবেশন হল। আমাদের ড্রিঙ্ক শেষ হতেই শো শুরু হল।

আমাদের মহিলা ট্যুর ম্যানেজার আগেই বলেছিল – শো’ তে টপলেশ ন্যুডিটি থাকবে কিন্তু সবই আর্টিষ্টিক, নান্দনিকভাবে উপস্থাপিত করা হয়, কোনরুপ vulgerity থাকে না।  গান দিয়ে শো শুরু হলো । এক সুন্দরি মহিলা স্টেজের উপর হতে নেমে এলেন, তারপর গান গাইতে শুরু করলেন। তারপরেই স্টেজে একঝাঁক পরীর মত মেয়েরা উপস্থিত। বক্ষদেশ উন্মুক্ত। নিম্নাংশ স্কিন কলর চাপা ড্রেস দিয়ে আবৃত। ফলে তাদের নগ্ন বলেই মনে হয়। যাই হোক তারা স্টেজের সামনে এসে দুই হাত প্রসারিত করে তাদের অপুর্ব বক্ষসম্পদ দর্শকদের সামনে মেলে ধরল, নানান ভঙ্গিমায়, গানের তালে তালে। তারা সবাই রিতিমত সুন্দরী, কম বয়েসী যুবতী, শারিরিক গঠন  সৌন্দর্যমন্ডিত, দু চোখভরে দেখার মত। নারী সৌন্দর্যের এক  অপুর্ব নিদর্শন বলা যেতে পারে। দর্শকবৃন্দ সব নিশ্চুপ, পিন ড্রপ সাইলেন্স। বোঝাই যাচ্ছে সবাই সৌন্দর্য্যসুধা পানে ব্যাস্ত। একবার নয় বারবার সেই সৌন্দর্য্যসুধা পানের সুযোগ এলো। এটা আসলে এক ধরনের উন্নত ক্যাবারে শো, রুচিসম্মত  এবং এলিটদের  ক্লাশদের জন্য । 

এই শোতে  অনেক কিছুই দেখার আছে। এখানে স্টেজ, লাইটিং এবং সীন পাল্টানোর ব্যাপারগুলো খুবই সুনিপুন এবং স্বয়ংক্রিয় (Automatic) ভাবে করা হয় । ইন্ডিয়া  থীমে খাজুরাহ মন্দির এবং তার শিল্পকলা নাচ ও গানে বর্ননা করা হল। মন্দির স্টেজের নিচে থেকে উঠে এল, স্বয়ংক্রিয়ভাবে  এবং মন্দিরগাত্রের মুর্তিগুলো আস্তে আস্তে জীবন্ত হয়ে স্টেজে নেমে এল।এটা বেভাল লাগলো।

Theme:Khajuraho India (Photo Credit : http://www.favilletours.com)

খন শো শেষ হল খন রাত ১-৩০টা। বাইরে তখন রাস্তায় মানুষের এবং গাড়ীর ঢল, দেখে মনে হচ্ছে কলকাতার সন্ধে সাতটা।
প্যারিস এসে লিডো শো না দেখলে প্যারিস ভ্রমন অসম্পুর্ন এমন কথাই বলা হয়।  ভাবতে অবাক লাগে এই শো 1946 থেকে একটানা চলে আসছে। কত জনপ্রিয় হলে এটা সম্ভব!