সুচিত্রা সেন

suchitra

মহানায়িকা সুচিত্রা সেন 17 Jan 2014 মৃত্যুবরণ করেন। তার সম্পর্কে ৯টি অজানা তথ্য :-

সুচিত্রা সেন একমাত্র অভিনেত্রী যিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার নিতে অস্বীকার করেছিলেন।

তাঁর প্রথম ছবি ছিল শেষ কোথায়। ছবিটি রিলিজ করেনি।

প্রথমদিকে অভিনয় করতে চাননি সুচিত্রা। তাঁর ইচ্ছা ছিল গায়িকা হওয়ার। তিনি এর জন্য অডিশনও দিয়েছিলেন। কিন্তু পরিচালক সুকুমার দাশগুপ্ত তাঁকে অভিনয়ের অফার দেন।

সুকুমার দাশগুপ্তের সহকারী নীতিশ রায় তাঁর নামকরণ করেন সুচিত্রা। এর আগে তিনি ছিলেন রমা।

তিনি প্রথম অভিনেত্রী যিনি ১৯৬৩ সালে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছিলেন। ছবিটি ছিল সাত পাকে বাঁধা।

সত্যজিৎ রায় তাঁর চৌধুরানি ছবির জন্য সুচিত্রা সেনকে নায়িকা হিসেবে চেয়েছিলেন। কিন্তু সুচিত্রা সেন ডেট দিতে পারেননি। সেই কারণে ছবিটিই বানাননি সত্যজিৎ রায়।

শুধু বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি নয়। বলিউডেও কাজ করেছিলেন সুচিত্রা সেন। দেবদাস, আঁধি, মমতার মতো ছবিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন।

তবে রাজ কাপুরের অফার তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। শোনা যায় রাজ কপুর ফিল্মি কায়দায় তাঁকে ছবির অফার দিয়েছিলেন। মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। সুচিত্রার নাকি সেটাই পছন্দ হয়নি।

ধর্মেন্দ্রকে তাঁর ডাক নাম “D” দিয়েছিলেন সুচিত্রা। মমতা ছবির সময় ধর্মেন্দ্রকে তিনি এই নামেই ডাকতেন।

Advertisements

পৌনে তেরোর নামতা

Sir_Asutosh_Mukharjikcnag-fp

“এতক্ষণ ধরে বোকার মত বসে ছিলি কেন? ঢেউ গুনতে পারিস নি? প্রতি ঢেঊয়ে সাত পয়সা করে হলে এতক্ষণে তুই লাখপতি হয়ে যেতিস, জানিস?”
আমি বললুম, আমি বোকার মত বসে থাকিনি তো। আমি তো ইলিশ মাছের নৌকো গুনছিলাম।
ছোটোকাকা ছেড়ে দেবার লোক নন। বলল, সেটা অবশ্য ঠিকই করেছিলি। তা কী করে বুঝলি কোন্‌ জেলেডিঙ্গি ইলিশের আর কোন্‌টা চিংড়ির?
ওই যে, যে নৌকোর মেছোরা মাথায় গামছা পেঁচিয়েছিল সেগুলো ইলিশের, আমি জানি। জালে বাধা পেয়ে ইলিশেরা যখন উড়ুক্কু মাছের মত সাঁই সাঁই করে লাফিয়ে নৌকোয় ওঠে তখন ওদের ধারালো পেটির ঘায়ে মেছোদের মাথা কেটে যায় কিনা, তাই গামছা পেঁচিয়ে রাখে। আমি দেখেছি।
ছোটোকাকা বলল, তা যখন এতোই জানিস, তাহলে মুখটা সবসময় অমন সাড়ে পাঁচের মত করে রাখিস কেন? পৌনে তেরোর নামতা জানিস?
আমি ম্লান হয়ে বললাম, পৌনে তেরো কেন ছোটকা? তেরো কি উনিশ বলো, আমি ঠিক পারব।
ছোটোকাকা আমার কানে একটা প্যাঁচ দিয়ে বলল, না ঐ পৌনে তেরোর ঘরের নামতাই বলতে হবে,। আমি অখন অতিকষ্টে পৌনে তেরো দুগুনে, ইয়ে মানে সাড়ে পঁচিশ। পৌনে তেরোত্তিনে (আবার ঢোঁক গিলে) সওয়া আটচল্লিশ এই করতে করতে যখন পৌনে তেরোদ্দশে একশ সাড়ে সাতাশে থেমেছি, ছোটকাকা কিছু না বলে আমার নড়া ধরে টানতে টানতে বাবার কাছে নিয়ে গিয়ে বলল, দাদা, বুকুন এখন সাত বছরেরটি হয়েছে। আপনি মত করুন ওকে কলকাতায় নিয়ে যাই। আমার বাসাবাড়িতে থাকবে, ইশকুলে পড়বে।
বাবা বলল, তুই আর হাসাস নি ফণী। তুই পড়িস ডাক্তারি। সময় কোথায় পাবি বুকুনকে দেখার? এমনিতেই বয়ে যাচ্ছে। ওখানে গিয়ে আরও –। তা ছাড়া, ও যা ভ্যাব্‌লা প্রকৃতির ছেলে, কলকাতায় গিয়ে রাস্তায় ট্রামের তলায় গিয়ে মরবে।
ছোটকা গলা খাটো করে কী যেন বলল। বাবা একসময় রাজি হয়ে গেল। মা আঁচলে চোখ মুছল।
কিষাণগঞ্জ থেকে কলকাতা, নৌকোয় তারপর স্টীমার তারপর ট্রেন। শিয়ালদায় নেমে ট্যাক্সি।
**********
বাগবাজারের ঘাটে নৌকো চুক্তি করছে একজন ফড়ে্মতন লোক। সঙ্গে এক আড়তদার। বাঘের মত চেহারা।
– মনকরা কতোয় দিবি রে ?
ণৌকো ভিড়তে না ভিড়তে দরদস্তুর শুরু হয়ে যায়,। খুচরো ক্রেতারা ধারেই ঘেঁষতে পায় না।
জেলে বলছে, মন-পিছু দেড় শোর কমে হবেনিকো।
ফড়ে আর আড়তদারে চোখাচুখি করে জেলেকে বলল, দেড় শো? তাহলে বল দি’নি একটা আড়াই সেরি ইলিশের দর পাইকিরিতে কতো পড়ছে?
আমি বাগবাজারের ঘাটে মাঝে মাঝেই গিয়ে চুপ্‌টি করে বসি। আমার মুখে নিশ্‌পিশ করতে লাগল উত্তরটা।
চট করে বলে দিলুম, নয় টাকা ছ আনা।
দুজনেই আমার দিকে প্রশ্নসুচক চোখে তাকালো।
আমি বিস্তারিত করে বললাম, শুভঙ্করী আর্যা আমার জানা আছে কিনা। মণ প্রতি যত টঙ্কা হইবেক দর/ আড়াই সেরেতে তত আনা করে ধর। তা দেড় শো আনা কে ষোলো দিয়ে ভাগ করলে ঐ নয় টাকা ছ আনাই দাঁড়ায় তো।
আড়তদার বললেন, বাপা, তোমার কথায় বার্তায় মনে হচ্ছে তুমি গ্রাম দেশের ছেলে। পড়াশুনা কিছু করো?
অপরিচিত লোকেদের আজ্ঞে করে বলতে হয়। অবশ্য ধুতি খাটো হলে আজ্ঞেমাজ্ঞে না করলেও চলে। ইনি খাটো ধুতি, পকেটওয়ালা হাফ শার্ট। তেল চুপ্‌চুপে মাথা, মাঝে সিঁথি, ঝোলা গোঁপ। আমার এদিককার ঘটি ভাষা তো বেশ রপ্ত-ই। তবু এই আড়তদার বাবু ধরে ফেলল আমি গাঁ-ঘরের ছেলে। ‘নয় টাকা’ বলে ফেলছি ন’টাকার বদলে, সে তো আর শোধরাবার উপায় নেই।
এত দুঃখ হচ্ছিল। তাই আরও কষে খাঁটি কলকাতার জবানে উত্তর দিলাম। বললাম, আজ্ঞে, আমি কলকেতায় লতুন এয়েচি। ইস্কুলে যাই বৈকি। সামনের বারে বৃত্তি পরীক্ষে দোবো।
– কোন ইস্কুল?
– কাশী মিত্র প্রাইমারি।
– থাকো কোথায়?
– আজ্ঞে, ছকু খানসামার গলিতে। কাকা আছেন, কারমাইকেলে ডাক্তারি পড়েন। তাঁর কাছে আছি।
তা যাও বাপু, তোমাদের ইস্কুলের হেডমাস্টার বর্ধন মশাইকে আমার নাম করে বোলো, তোমার পড়তে পয়সা লাগবে নাকো। খাতা বই-পত্তরও মাগনা পাবে।
আমি ব্জিজ্ঞেস করলাম, কিন্তু আজ্ঞে আপনার নামটা?
গুঁপো আড়তদার বাবুটি কিছু বলবার আগেই আর এক ফড়ে বলে উঠল, বলচ কী হে ছোকরা, এঁকে জানো নি? ইনি হল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, স্যর আশুতোষ মুকুজ্জে।
তা ভাইস ও বুঝলুম না, চ্যান্সেলরও মাথার ওপর দিয়ে বেরিয়ে গেল। তাও মুকুজ্জে শুনে পা ছুঁয়ে পেন্নাম করে ফেললুম। ইনি মাছের আড়তদার মানুষ নন তবে।
আমি ফ্রীতে পড়তে পাবো সেটা বোঝা গেল।
লাফাতে লাফাতে ছোটোকাকার বাসার দিকে রওনা দিতে আশুবাবু পেছন থেকে হেঁকে বললেন, তোমার নামটি তো জানা হল না ছোকরা !
আমি বলুম, আজ্ঞে, আমার নাম কেশব। কেশবচন্দ্র নাগ।
উনি বললেন, অঙ্কটা ছেড়ো না বাপু। বড়ো হয়ে অঙ্ক শিখিয়ে, অঙ্কের বই লিখে বেশ দেশের উপকার করতে পারবে তুমি। বিজ্ঞান আর কারিগরী বিদ্যে শিখতে অঙ্ক ছাড়া যে এক পা-ও চলবেনিকো।
(As received via whatsapp)

ছোট্ট গল্প : কন্যা সন্তান

iman-maleki-1

মাথা নীচু করে বসে থাকা মেয়েটার দিকে তাকিয়ে তার বাবা গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠল, “নিজে পড়ে জয়েন্টে ভালো rank করেছো ঠিকই কিন্তু পড়তে তো হবে প্রাইভেটেই…! আবার তোমার ভাইও বলেছে ইঞ্জিনিয়ারিংই পড়বে। এত খরচা আমার পক্ষে করা সম্ভব নয়। তুমি জেনারেলে গ্রাজুয়েশনটা করো। আর অমিয় বাবুর সাথে কথাটা বলাই আছে। বিয়েটা হয়ত সেকেন্ড ইয়ারেই হয়ে যাবে তোমার। ছেলে হিসাবে তোমার ভাইএর চাকরী পাওয়াটা বেশী দরকার।”

২০ বছর পর –

টেলিফোনে মেয়ের কান্নার আওয়াজ- “বাবা আমায় ক্ষমা কর। আর আমাদের বাড়িতে কোনদিনও এসো না। তোমার শেষ কেমোথেরাপির পর তোমার জামাই অমর কে বলেছিলাম, বাবা এরপর থেকে আমাদের সাথেই থাকুক, ভাইও বিদেশে। তার উত্তরে আমাকে বললো, ‘নিজের তো এক পয়সা রোজগার করার মুরোদ নেই, একটা পাতি গ্রাজুয়েট…এখন নিজের সাথে সাথে নিজে বাবাকেও আমার ঘাড়ে….লজ্জা করল না বলতে‘?”

Writer : Unknown

প্রার্থনা

তোমার বাহুর বন্ধনে বাঁধো মোরে,

রাখ মোরে তোমার দৃষ্টিতে,

দিয়োনা যেতে আমারে দূরে।

হতে দিয়োনা আমারে শিকার,

নিয়ে চল দূরে কোথাও,

প্রেমে যেন পড়ি না আবার।

বাঁধো মোরে তোমার আলিঙ্গনে,

বাহুপাশে কর মোরে বন্দী,

যেতে দিয়োনা আমারে বিপথে।

হতে দিয়োনা আমারে শিকার,

নিয়ে চল দূরে কোথাও,

প্রেমে যেন পড়ি না আবার।

~~~~~~~~

31 Dec 2016, Copyright © Bichitraa 2016, all rights reserved.

Take me away” by Asha inspired me to compose this poem in Bengali.